চরফ্যাসনে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সিআইডিকে ব্যাবস্থা নেয়ার নির্দেশ

প্রকাশিত: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ, মে ২৫, ২০১৮ | আপডেট: ১২:০২:পূর্বাহ্ণ, মে ২৫, ২০১৮
চরফ্যাসনে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সিআইডিকে ব্যাবস্থা নেয়ার নির্দেশ

ভোলার চরফ্যাসনে ১২ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের ঘটনায় চেয়ারম্যান ও ধর্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বিচারক মোঃ আতোয়ার রহমান সকল ঘটনা পর্যালোচনা করে এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানাযায়, ভোলার চরফ্যাসনের নীলকমল ইউনিয়নের ৬মাসের অন্তসত্বা শিশুকন্যার ধর্ষককে বাচাঁতে একের পর এক নাটক করছেন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হাওলাদার। বিয়ের নাটক সাজিয়ে ৬মাস ধরে ১২বছরের ভিকটিমকে এলাকার ভেতর আটকিয়ে রেখে ধর্ষণের আলামত নষ্টের চেষ্টা করেছেন ওই চেয়ারম্যান।

গতকাল বৃহস্পতিবার ধর্ষকের বিরুদ্ধে ভোলার আদালতে ভিকটিমের বাবা শাহাবুদ্দিন বাদী হয়ে ধর্ষণ ও অপহরন মামলা দায়ের করলে আদালত সিআইডি ভোলা শাখার নুন্যতম একজন সিআইডি পরিদর্শক কে চেয়ারম্যান আলমগীর হাওলাদারসহ সকল আসামিদের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।

মামলার আইনজীবী এ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম জানান, আমরা প্রকৃত ঘটনা আদালতে তুলে ধরার পর আদালত সকলকিছু পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে সিআইডি তদন্তের মত একটি যুগান্তকারী আদেশ প্রদান করেন। এতে করে ভিকটিমের ন্যায়-বিচারের পথ অনেকটা সুগম হলো।

স্থানীয়সুত্র জানান, চরফ্যাসন উপজেলার দুলারহাট থানাধীন নীলকমল ইউনিয়নে কাজল ফরাজীর ছেলে মিঠুন ধর্ষণ করে একই ইউনিয়নের শাহাবুদ্দিনের ১২বছরের মেয়েকে। মেয়ের ধর্ষণের বিচার চাইতে ধর্ষিতার মা ও বাবা চেয়ারম্যান আলমগীর হাওলাদারের কাছে গেলে চেয়ারম্যান নানা অজুহাতে ভিকটিমের বাবা মা কে বিচারের কথা বলে ঘুড়াতে থাকে। অনেকদিন ধরে ভিকটিমকে চেয়ারম্যানের হেফাজতে রেখে ধর্ষণের আলামত নষ্টের চেষ্টা করেছেন বলেও ভিকটিমের আত্বীয় স্বজন জানান।

কয়েকমাস অতিবাহিত হওয়ার পর ভিকটিমকে মেডিকেল পরিক্ষায় অন্তসত্বার পজেটিভ রিপোর্ট আসার পর চেয়ারম্যান ফের নাটক শুরু করেন। এবার মিথ্যা কাজী ও হুজুর সাজিঁয়ে ৩লাক্ষ টাকা কাবিনে বিয়ের আয়োজন করে ১২বছরের ধর্ষিতার। এর কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ধর্ষক মিঠুনকে কৌশলে চট্রগ্রাম পাঠিয়ে দিয়ে ফের বিচারের নামে নানা তালবাহানা করতে থাকে চেয়ারম্যান। এক পর্যায়ে ভিকটিমের বাবার কাছ থেকে ৫৫হাজার টাকাও হাতিয়ে নেন। ৬মাস পর গতকাল বুধবার চেয়ারম্যানের হেফাজত থেকে পালিয়ে ভোলায় এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ভিকটিম ও তার পরিবার।