অর্থের অভাবে পুড়ছে রিতুর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন!

হাসান পিন্টু হাসান পিন্টু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:১৮ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৯ | আপডেট: ১২:১৯:অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৯
অর্থের অভাবে পুড়ছে রিতুর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন!

রিতু বেগম। ভোলার লালমোহন পৌরশহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ফকু ফকির বাড়ির মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক দিনমজুর বাবার বড় মেয়ে সে। ছোট বেলা থেকেই পড়ালেখায় অত্যান্ত মনোযোগী। তারই ধারাবাহিকতায় জেএসসিতে কৃতিত্বের সহিত উর্ত্তীণ হয়। এবছরের এসএসসি পরীক্ষায় লালমোহন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে অংশ গ্রহণ করে ৩.৩৭ পেয়ে উর্ত্তীণ হয়।

তবে অর্থের অভাবে এবার পুড়ছে রিতু বেগমের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন। বাবা বাকপ্রতিবন্ধি। দিনমজুরি কাজ কাজ করে কোনো মতে সংসার পরিচালনা করেন তিনি। আর মা গৃহীনি। বাকপ্রতিবন্ধি বাবার উর্পাজনেই চলে তাদের সংসার। টানা-ফোঁড়নের সংসারে কোনো রকমে এসএসসির গন্ডি পের হতে পারলেও এবার থেমে গেছে তার উচ্চমাধ্যমিকে পড়াশুনার স্বপ্ন।

রিতু বেগম বলেন, সংসারে আমিসহ চার বোন। আমার ছোট বোনরাও পড়ালেখা করছে। প্রাথমিক আর মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ালেখার খরচ কম হওয়ায় তারা পড়ালেখা করতে পারলেও আমি টাকার জন্য উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হতে পারছি না। এবং উচ্চমাধ্যমিকে পড়ালেখায় অনেক খরচ। তাই পরিবার থেকে এখন আমাকে পড়াতে অনিহা প্রকাশ করছে। তবে আমি পড়তে চাই। আমিও হতে চাই উচ্চশিক্ষিত। সেবা করতে চাই দেশে ও দেশের জনগনের। তাই কেউ যদি আমার পড়ালেখায় সহযোগিতা করে তাহলে আমিও হবো উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত।

রিতুর মা পারভীন আক্তার বলেন, ছোট বেলা থেকেই সে অনেক মেধাবী। পড়ালেখায়ও অনেক মনোযোগী ছিলো। সংসারে ব্যাপক অভাব-অনটন থাকলেও তার প্রবল ইচ্ছা শক্তির কারণে সে এবছর এসএসসিতে পাস করেছে। আমরা আর পারছি না। অন্য মেয়েদেরও আমাদের পড়াতে হয়। আবার একজনের উপার্জনেই আমাদেরও চলতে হয়। এ অভাবের কারণে হয়তো আমাদের বড় মেয়েটাকে আর পড়াতে পারবো না।