মানুষের ঢল সদরঘাটে

প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ২, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৪০:অপরাহ্ণ, জুন ২, ২০১৯
মানুষের ঢল সদরঘাটে

ঈদে প্রিয়জনের কাছে ফিরতে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। রোববার ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে সদরঘাটে। লঞ্চে জায়গা পেতে অনেকেই সকালে ছুটেছেন সদরঘাটের দিকে। যদিও সকাল থেকে ঘণ্টা দুয়েক বৈরী আবহাওয়ায় থেমে ছিল ঈদযাত্রা। পরে ঝলমলে আবহাওয়ায় সদরঘাটে যাত্রীদের ঢল নামে।

রোববার সদরঘাটের আগে রায়সাহেব বাজার থেকেই চোখে পড়ে নৌপথের যাত্রীদের। হাত ও কাঁধে একাধিক ব্যাগ, কারো মাথায় বস্তা, মালামাল নিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ চলছেন লঞ্চের দিকে। তবে দুপুর পর্যন্ত সদরঘাটে যাওয়ার সড়কগুলো ছিল অনেকটাই যানজটহীন, তবে ওইসব সড়কে গাড়ির চাপ ছিল।

বেলা ১১টার দিকে সদরঘাটে দেখা যায়, যাত্রীরা আসতে শুরু করেছেন। ঘাটে থাকা কয়েকটি লঞ্চের ডেক যাত্রীতে প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। তবে কিছু সময়ের পরই আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গিয়ে ঝড়োহাওয়া বইতে থাকে, সঙ্গে নামে বৃষ্টি। অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ২ নম্বর সংকেত জারি করে আবহাওয়া বিভাগ। এই পরিস্থিতিতে সদরঘাট থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে দুপুর ১২টার দিকে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়। রোববার দুপুরে বাংলাদেশ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদরঘাটে দায়িত্ব পালনকারী পরিবহন পরিদর্শক দিনেশ কুমার সাহা বলেন, দুপুর পর্যন্ত সদরঘাট থেকে মোট ২৬টি নৌযান বিভিন্ন রুটে ছেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, এর মধ্যে দু’টি দূরপাল্লার লঞ্চ সদরঘাট ছেড়ে গেছে। যাত্রীবোঝাই হয়ে যাওয়ায় সকালেই ঢাকা-হাতিয়া রুটে চলাচলকারী তাশরীফ-১ ও ঢাকা-ঘোষেরহাট রুটে চলাচলকারী গ্লোরী অব শ্রীনগর-৮ লঞ্চ সদরঘাট ছেড়ে গেছে, যদিও এই লঞ্চগুলোর বিকেল থেকে সন্ধ্যা নাগাদ সদরঘাট ছেড়ে যাওয়ার কথা।

Shodorghat

দিনেশ কুমার সাহা জানান, এখন লঞ্চ যাত্রীপূর্ণ হলেই নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আমরা আগেই ঘাট ছাড়ার নির্দেশনা দিচ্ছি।

দুপুরের মধ্যেই সদরঘাটের মূল ঘাটে থাকা ঢাকা-কালাইয়া রুটে চলাচলকারী বন্ধন-৫, ঢাকা-চরফ্যাসন রুটের কর্ণফুলী-১৩, ঢাকা-হাতিয়া রুটের ফারহান-৪, ঢাকা-বোরহানউদ্দিন রুটের প্রিন্স অব জাহিদ-৭, ঢাকা-ভোলা রুটের কর্ণফুলী-৪, ঢাকা রাঙ্গাবালী রুটের জাহিদ-৪ লঞ্চ যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে যায়।

দুপুরের পর সদরঘাটে যাত্রীর চাপ ক্রমেই বাড়ছিল। অনেককেই লঞ্চের ছাদে চাদর বিছিয়ে বসতে দেখা গেছে। বন্ধন-৫ লঞ্চের যাত্রী মো. রাকিবুর রহমান। বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের মৈশাদী গ্রামে। রাকিব বলেন, কাজের তাগিদে শহরে থাকি, মা-বাবা গ্রামে থাকেন। তাই গ্রামে যাওয়া ছাড়া আমাদের ঈদ অপূর্ণ। সকালে বৃষ্টিতে ভিজে সদরঘাটে এসেছি। ডেকে কোনো রকমে বসার জন্য একটু জায়গা পেয়েছি।

সদরঘাটে দায়িত্ব পালনকারী বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা মনে করছেন, সদরঘাটে সর্বোচ্চ ভিড় হবে সোমবার। মঙ্গলবারও যাত্রীর প্রচণ্ড চাপ থাকবে। এর মধ্যেই দুপুর ১২টার দিকে সদরঘাট পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সদরঘাট পরিদর্শনে আসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ম ম মোজাম্মেল হকও।

Shodorghat

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঈদের সার্বিক প্রস্তুতি যেটা নিয়েছি; শিমুলিয়া, আরিচা ও সদরঘাট যতটুকু পর্যবেক্ষণ করেছি আমরা সন্তুষ্ট। সব কিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হচ্ছে। আমরা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

সদরঘাট থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৩টি রুটে লঞ্চ চলাচল করে। ঈদের সময় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ লোক সদরঘাট দিয়ে নদীপথে গ্রামের বাড়ি যান বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা।

তারা জানিয়েছেন, রোববার থেকে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এই যাত্রীরা ঢাকা ছাড়বেন। মঙ্গলবার শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে বুধবার মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হবে।

এক্ষেত্রে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি থাকবে। তবে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হলে ঈদ হবে বৃহস্পতিবার। সেক্ষেত্রে একদিন বেড়ে শুক্রবারও সরকারি ছুটি থাকবে, যদিও ওইদিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন।