তজুমদ্দিনে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি

প্রকাশিত: ৭:০৯ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০১৯ | আপডেট: ৭:০৯:অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০১৯
তজুমদ্দিনে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি

প্রচন্ড তাপদাহের কারণে ভোলার তজুমদ্দিনে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫ শতাধিক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিনিটি কিøনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। ডায়রিয়ার রোগীদের এমন ভীড়ে চিকিৎসা দিতে নিয়মিত হিমশিমে পড়তে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তজুমদ্দিন হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. আ.ফ.ম আখতার হোসেন বলেন, প্রতিদিনই ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারপরও চিকিৎসকরা নিরলসভাবে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। রোগীদের সকল ধরনের ঔষধপত্র হাসপাতাল থেকে বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, তজুমদ্দিনে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে ডায়রিয়া রোগীদের জন্য আলাদা কোন ওয়ার্ডে নেই। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বেশির ভাগ বেড ও বারান্দার ফ্লোর রয়েছে ডায়রিয়ার রোগীদের দখলে।

গতকাল রোববার (১২ মে) দুপুরে হাসপাতালে সরজমিনে দেখা যায়, ২০জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী বেডের বাহিরেও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রতিদিন ২৫-৩০জন ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি হয়। আজ সকাল থেকে এখন পর্যন্ত ২০ জন ভর্তি হয়েছে। বিকাল নাগাদ আরো ১০ থেকে ১২ রোগী আসতে পারে। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৪৫-৫০জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকে। ৩১ শয্যার বাহিরে রোগীদের ফ্লোরেই চিকিৎসাসেবা দিতে হয়।

অপরদিকে তজুমদ্দিন হাসপাতালটিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা হিসেবে ডা.আ.ফ.ম আখতার হোসেন যোগদানের পর থেকে চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌছে দিতে দিনরাত বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এদিকে তজুমদ্দিন উপজেলায় প্রান্তিক জনগোষ্টির স্বাস্থ্য সেবার কথা মাথায় রেখে ১৯৭৫ সালে ৩১ শয্যা হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা জন্য ২০১৮ সালে ৫০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল করা হলেও প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় নতুন হাসপাতালে কার্যক্রম শুরু করতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। উপজেলাবাসীর দাবী যতদ্রুত সম্ভব সকল ধরনের সমস্যা সমাধান করে ৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতালটি চালু করে প্রান্তিক জনগোষ্টির স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি কামনা করেন।