চরফ্যাসনে ‘ফণি’ মোকাবেলায় প্রস্তুত ১২২টি সাইক্লোন শেল্টার

সোহেব চৌধুরী সোহেব চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, মে ২, ২০১৯ | আপডেট: ১১:১৯:অপরাহ্ণ, মে ২, ২০১৯
চরফ্যাসনে ‘ফণি’ মোকাবেলায় প্রস্তুত ১২২টি সাইক্লোন শেল্টার

ঘূর্ণিঝড় ফনি মোকাবেলায় সারাদেশের ন্যায় ভোলার চরফ্যাসনেও নেয়া হয়েছে প্রস্তুতি। সকাল থেকেই চলছে সতর্কিকরণ প্রচার প্রচারণা। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোয় উপজেলার ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি ও মোকাবেলায় স্থানিয়দের নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রতিটি ইউনিয়নে স্থানীয়ভাবে স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলায় ১২২টি সাইক্লোন শেল্টার ও প্রত্যেক কলেজ ভবনগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদের সিপিপি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ফণি আইলা ঝড়ের চেয়েও শক্তিশালী হতে পাড়ে এটি আগামীকাল ভারতের উড়িষ্যা ও বিহারে শক্তিশালী আঘাত হানার সম্ভানো রয়েছে যার ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর উপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের বিস্তৃত শক্তিশালী প্রভাব বিস্তারের আসঙ্কা করা হচ্ছে। যার ফল স্বরূপ বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চলগুলোয় ৫-৭ ফিট পানির উচ্চচাপ হতে পাড়ে।

চরফ্যাসনের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো হলো ঢালচর, পাতিলা চর, কুকরি-মুকরি, চর মানিকা, মুজিবনগর, জাহানপুর, চর ফকিরা, মাদ্রাজ ও আসলামপুর।

চরফ্যাসন উপজেলার পৌরসভা ও জিন্নাগড়সহ ২২টি ইউনিয়নের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির টিম লিডারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল থেকে তারা উপজেলা সিপিপি কার্যালয়ের নির্দেশ মোতাবেক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিয়ে প্রত্যেক পাড়া মহল্লায় গিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে প্রস্তুত থাকা ও ঘূর্ণিঝড়কে মোকাবেলা করতে আলোচনা করা হয়েছে।

উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের এজিএম যেকোনো বৈদ্যুতিক সমস্যায় ০১৭৬৯৪০২২১৬ ও পিডিবি আবাসিক প্রকৌসুলী দিপক মিস্ত্রি ০১৭০০৭০৯৯৯৯ জরুরী যোগাযোগে এ ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য জানান।

চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দিন বলেন, আমরা চরফ্যাসন উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। চরফ্যাসন হাসপাতালে কন্ট্রোলরুম স্বর্বক্ষণিক খোলা রয়েছে এবং জেলা সিভিল সার্জনের কন্ট্রোল রুমে আমরা স্বার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।

চরফ্যাসন, দুলারহাট, শশিভূষণ ও দক্ষিণ আইচা থানার অফিসার ইনচার্জদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক তৎপরতা চলছে। বৃদ্ধ, নারি, পুরুষ ও গর্ভবতী মহিলাসহ গবাদিপশু নিরাপদে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাপক তৎপরতা নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন অফিসার ইমরান হোসেন বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত আছি, যেকোনো মুহুর্তে দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা তৎপরতা চালাচ্ছি।

উপজেলা সিপিপি’র সহকারি পরিচালক মোকাম্মেল হক লিপন বলেন, সকাল ১১-১২ টার মধ্যে এর প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা করছি এবং সন্ধ্যার দিকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। সন্ধ্যা ৮টায় উপজেলা প্রশাসনের এক জরুরী আলোচনার আয়োজন করা হয়। এসময় উপজেলার সকল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সকল প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি মতবিনিময় করা হয়।

ইউএনও রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন আখন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিষ কুমার, পৌর মেয়র শ্রী বাদল কৃষ্ণ দেবনাথসহ সাংবাদিক বৃন্দ।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন বলেন, আমাদের ১২২টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে জনগণকে স্থানান্তর করার কার্যক্রম অব্যাহত আছে, শুকনো খাবার মজুদ করে রাখা হয়েছে এবং মেডিকেল টিম ও পুলিশ, কোস্টগার্ডের তৎপরতা চলছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে সকল জনগণকে সাইক্লোন শেল্টারে নিয়ে আসার জন্য জানিয়েছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন আখন বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি মহোদয় চরফ্যাসন ও মনপুরার জনগণকে সবধরনের নিরাপত্তা দিতে স্বার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছেন।

বর্তমানে ঝড়ের গতিবেগ ১৮০ কিলোমিটার বলে জানান সিপিপি’র ওয়ার্লেস অপারেটর মোঃ মাহফুজুর রহমান।