বিলীন হচ্ছে মনপুরা জনপদ

প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০১৯ | আপডেট: ৪:৫৩:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০১৯
বিলীন হচ্ছে মনপুরা জনপদ

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলা সদর হাজিরহাট বাজার থেকে উত্তর পাশের আঃ লতিফ ভূইয়া বাড়ী সংলগ্ন সংযোগ সড়কটি যে কোন মুহুর্তে নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে। মেঘনার অব্যাহত ভাঙ্গনে সংযোগ সড়কটি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।

গত বর্ষা মৌসুমে মেঘনার তীব্রতায় ঢেউয়ের আঘাতে সংযোগ সড়কটির নিচ থেকে মাটি সড়ে গিয়েছে। সংযোগ সড়কটি বিচ্ছিন্ন হলে বন্ধ হয়ে যাবে ২টি গ্রামের যোগাযোগ ব্যাবস্থা। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়বে হাজির হাট ইউনিয়নের সোনারচর ও চরযতিন গ্রামের ১০ সহস্রাধিক মানুষ। সংযোগ সড়কটি থেকে মেঘনার দুরত্ব রয়েছে ২০মিটার।

সংযোগ সড়কটি ভেঙ্গে গেলে মেঘনার জোয়ারের পানি প্রবেশ করে পানিবন্ধি হয়ে পড়বে ২টি গ্রামের মানুষ। হুমকির মুখে পড়বে সোনারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মসজিদ মন্দির। চরম দুর্ভোগে পড়বে কোমলমতি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা। প্রতিদিন চরযতিন ও সোনারচর গ্রাম থেকে শতাধিক স্কুল কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এই সড়ক দিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করে। সংযোগ সড়কটি বিচ্ছিন্ন হলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে এইসব শিক্ষার্থীদের। প্রতিদিন শতশত মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

এছাড়াও তীব্র ভাঙ্গনের হজুমকিতে রয়েছে হাজিরহাট ইউনিয়নের নাইবেরহাট চেীধুরী বাজার পুর্বপাশের বেড়ীবাধ, সোনারচরের রাস্তার মাথা, দাসেরহাট। উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের কোরেজডেম, মাষ্টারহাট। দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রাম ও পূর্ব ও দক্ষিণপাশের বেড়ীবাঁধ।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, সরজমিনে গিয়ে ভাঙ্গন কবলিত এলাকার চিত্র তুলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করব। এই মুহুর্তে ডাম্পিং বা পাইলিং করার কোন ব্যাবস্থা নেই। ভাঙ্গন এলাকায় নদীভাঙ্গন রোধ প্রকল্প তৈরির জন্য চেষ্টা করব।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগের সভাপতি সেলিনা আকতার চৌধূরী বলেন, ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপির চেষ্ঠায় নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। মনপুরা নদী ভাঙ্গন রোধ প্রকল্পের কাজ চলছে। তীব্র ভাঙ্গন এলাকায় স্পট নির্ধারণ করে আমরা দ্রুত প্রকল্প তৈয়রীর জন্য চেষ্টা করব। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীর সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করব।

ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় ভাঙ্গন রোধে দ্রুত কোন ব্যাবস্থা গ্রহণ করা না হলে চরম দুর্ভোগে পড়বে ভাঙ্গন কবলিত এলাকার হাজারো মানুষ। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে কার্যকরী ব্যাবস্থা গ্রহণ করার দাবী জানিয়েছেন এসব এলাকার বসবাসকারী সাধারণ মানুষ।