চরফ্যাসন শহরের একমাত্র খালটি ময়লা আবর্জনার ভাগাড়!

সোহেব চৌধুরী সোহেব চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৫৯:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০১৯
চরফ্যাসন শহরের একমাত্র খালটি ময়লা আবর্জনার ভাগাড়!

ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার পয়ঃ নিষ্কাশনের একমাত্র খালটি এখন ময়লা আবর্জনার ভাগারে পরিণত হয়েছে। পৌর শহরের সকল ময়লা আবর্জনা দুর্গন্ধে জনসাধারণ স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছে না। এর ফলে মশা মাছির উপদ্রপ ও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এখন এলাকাবাসি। বর্ষার মৌসুমে এই খালে ময়লা আবর্জনায় পানি নিষ্কাশনে প্রধান প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হবে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পৌর শহরের সকল ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এই খালে। এছাড়াও খালটিতে মাছ বাজার, তরকারি বাজার, মাংস বাজার, চরফ্যাসন হাসপাতাল ও বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য পদার্থে ভরে গিয়েছে। কিন্তু দির্ঘদিন খননের অভাবে খালটি এখন প্রায় স্রোতহীন। ময়লা আবর্জনার কারনে দুষণ হচ্ছে পরিবেশ।

এক সময়ে এই নদীতে শান বাধাঁনো ঘাট, সেখান দিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত মানুষ বিভিন্ন স্থানে নৌকা, ষ্টীমার করে আসা যাওয়া করতো। ধান, চাল, পেয়ারা ও বিভিন্ন গাছগাছালির চারা নিয়ে নৌকা চলত এ নদীতে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নৌকা ট্রলার টেম্পু বা গয়নাগুলোকে সারি সারি বেধে রাখা হতো এ ঘাটগুলোয়।

এক সময়ে এটি ছিল মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর মোহনা। এক সময়ে এই নদীটি সাগর মোহনার জোয়াড় ভাটার মান্দারতলি খাল হিসেবে পরিচিত থাকলেও কালের পরিক্রমায় মান্দারতলি খাল হাড়িয়েছে শান বাধানো সেই ঘাট, হাড়িয়েছে তার রুপ জৌবন ও স্বচ্ছ পানির সেই স্রোতধারা।

চরফ্যাসন উপজেলার ঐতিহ্যের ধারক বাহক এ খালটি এখন মরে গেলেও দেখার যেন কেউ নেই। দির্ঘদিন ধরে এ অবস্থার জন্য জনমনে এখন উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। বাজারে কখনো অগ্নিকান্ড ঘটলে পানি খুঁজে পায়না ফায়ার সার্ভিস কর্মিরা, বাজারের আশেপাশে ভালো পুকুর বা জলাশয় না থাকায় অগ্নিনির্বাপনে সময় কেটে যায় ঘন্টার পর ঘন্টা যার জন্য ক্ষতি হচ্ছে সাধারণ ব্যাবসায়ি ও জনগণ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় ৩৭৫টি উপজেলা ও ২টি সিটি করপোরেশনে ছোট নদী খাল এবং জলাশয়গুলোর পানি ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষিতে সেচ সুবিধা,পানি নিষ্কাশন, খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস চাষ, নৌ-চলাচল, জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রন, সড়ক বা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পানি ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডেল্টা প্লান ২১০০ প্রকল্পের আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ( ডিভিশন-২) এর মাধ্যমে চরফ্যাসন বাজার খালকে ১০ কিঃ মিঃ পূনঃখননের মাধ্যমে বাজার পূনরুজ্জীবিত করার জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়। ১কোটি ১৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকায় খাল খননের কাজ শুরু করে।

জনমনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে আদৌ এই খাল খননের অগ্রগতি হবে কিনা?

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ চরফ্যাসন নির্বাহী প্রকৌশলী কাইছার আলম বলেন, ছোট নদী,খাল ও জলাশয়কে খননের মাধ্যমে বৈচিত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আমরা বাজারের খালের খনন কাজ শুরু করেছি কিন্তু পৌরসভার খামখেয়ালীপনার কারণে ডিজাইন অনুযায়ী খাল খনন করতে পারছিনা। পৌর মেয়র শুধু খালের তলা খনন করে নিষ্কাশন ব্যাবস্থা করতে নির্দেশনা দেন। কিন্তু আমাদের ডিজাইন অনুযায়ী খালের ২ পার থেকে ৩ মিটার ঢেল করে খালের তলাকে ৪ মিটার প্রসস্থ ও খালের উপরিস্থর হবে ১৫-১৬ মিটার করে খনন করতে হবে।

এ বক্তব্যে পৌর মেয়র শ্রী বাদল কৃষ্ণ দেবনাথ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড পানি নিষ্কাশনে সঠিক ডিজাইন অনুযায়ি খালের খনন হচ্ছেনা। পানি উন্নয়ন বোর্ড খালের পাড় কেটে জনগনের মালিকানাধীন স্থাপনা ভেঙ্গে ক্ষতিসাধন করছে। খালের গভীরে খনন না করে খালের পাড় খনন করছে যার ফলে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে।

চলমান খাল খনন কাজের অগ্রগতি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রুপালী কনসট্রাকশনের সাব- ঠিকাদার বলেন, পয়ঃ নিষ্কাশনে ডিজাইন অনুযায়ী প্রভাবশালী অবৈধ স্থাপনা রক্ষা করতে খাল কাটায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

চরফ্যাসন উপজেলা জলবায়ু ফোরামের সভাপতি অসিম তালুকদার বলেন আগামী প্রজন্মকে বাসযোগ্য করে গড়তে অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে খাল পুনরুদ্ধার করে পর্যাপ্ত পয়ঃ নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে না পারলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে।