ছোটন সাহার কলামঃ ভালোবাসার অনুভুতি

প্রকাশিত: ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯ | আপডেট: ১১:৩৯:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯
ছোটন সাহার কলামঃ ভালোবাসার অনুভুতি

ফাগুনের প্রহর শেষ হতে না হতেই এসেছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। দুটি উৎসবকে ঘিরে যেন ফুলের শোভায় তারুন্যের উচ্ছাস। ফাগুন আর ভালোবাসা দিবস, এ দিনে প্রিয়জনকে নিয়ে গল্প, কবিতা আর গানের আড্ডায় মেতে উঠার মত একটি দিন। ‘ভালোবাসা’ বা ভালোবাসি কথাটি অনেক চেনা। যা উচ্চারন করলে বা কান পেতে শুনলে মনের ভেতর অন্য রকম এক অনুভুতি সৃষ্টি হয়। হৃদয়ের আকর্ষন, লুকিয়ে প্রিয় মানুষটিকে দেখা। ছবির দিকে তাকিয়ে থাকা আর কথা বলার মাঝেই যেন ভালোলাগার তৃপ্তি। শাজাহান-মমতাজ, রুমিয়েট-জুলিয়েট, সিড়ি-ফরহাদ ও লাইলি মজনুর মত জুটি ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরন। এমন ভালোবাসা আজো অমর হয়ে রয়েছে।

আগে চিঠিতে মনের কথা প্রকাশ করার মধ্যে যেমন অন্যরকম অনুভুতি ছিলো ঠিক তেমনি এখন সেলফোন, এসএমএস বার্তা বা ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে মনের ভাষা প্রকাশ করাসহ নানা পদ্ধতির মাঝেও বিশেষ অনুভুতি রয়েছে। কেউ আবার দুর থেকেও ভালোবেসে যায়, কারো ভালোবাসা নিরবে নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আবার কেউ কেউ মনের কথা জানানোর সাহস পায়না। নিরবে ভালোবেসে যায় দিনের পর দিন। এটাও ভালোবাসা। অপ্রকাশিত এ ভালোবাসার মধ্যেও হৃদয় দোলা দেয়।

ভালোবাসার ব্যাখা অনেক। প্রতিটি মনেই ভালোবাসা দোলা দেয়। প্রথমে শুরু হয় ভালোলাগা, তারপর ভালোবাসা। এরপর মন দেয়া নেয়া বা প্রেম নিবেদন। দুটি মনের মিলন, প্রিয়জনের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকা। চোঁখে চোঁখ রাখা, হাত ধরে হেটে বেড়ানো, সেলফি তোলা আর প্রিয়জনকে উপহার দেয়া হয়ে থাকে বিশেষ এ দিনটিতে। আসলে ভালোবাসা একদিনের জন্য নয়, ভালোবাসা চীরদিনের, ভালোবাসা অমর।

আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট
ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ করা হয়। ভ্যালেনটাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে একই সূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

শুধু প্রিয়জনের মাধ্যে এ ভালোবাসা সীমাবদ্ধ নয়, এ ভালোবাসা পরিবারের আপন মানুষদের প্রতিও থাকা চাঁই। স্নেহের বাঁধনে জড়িয়ে রয়েছে পরিবারের প্রতিটি সদস্য। সুখ-দু:খে তারা যেমন সঙ্গী হয়ে তাকে ঠিক তেমনি ভালোবাসার বাধনেও। তাই এ ভালোবাসা হোক সবার জন্যই। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের এমন অঙ্গীকার হোক প্রতিটি মনে।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে সারাদেশের মত দ্বীপজেলা ভোলাতে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ এ দিনটিকে ঘিরে শহরের সারি সারি ফুলের দোকান বসেছে। সেখানে গোলাপ, রজনীগন্ধাসহ বাহারি ফুলের পসরা। এসব দোকানে ভীড় জমেছে তরুন-তরুনীসহ বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষের। প্রিয়জনকে ফুল উপহার দিতে ছুটে আসছে ক্রেতারা। এতে জমজমাট হয়ে উঠেছে এসব দোকান।

ফুলের দোকানে যেমনি ভীড় জমেছে ঠিক তেমনি, ভোলার দর্শনীয় স্থানগুলো যেন সেজেছে নানা রঙ্গে। দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় দৃষ্টি নন্দন মাঠ, পৌর ও জেলা পরিষদ চত্বর, ইলিশ ফোয়ারা, জলপ্রপাত, তুলাতলী মেঘনা পাড়, ভেরুমিয়া শেষ মাথা, বাঘমারা ব্রীজ, খেয়াঘাট ব্রীজ, কোড়ালিয়া গ্রামের তেঁতুলিয়া ইকো পার্ক উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও লালমোহনের সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল পার্ক, চরফ্যাসনের জ্যাকব টাওয়ার, শেখ রাসেল শিশু পার্ক, খামার বাড়ি, কুকরী-মুকরী ও মনপুরাতেও পর্যটকদের ভীড় জমে। এছাড়াও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।